Thursday, 20 September 2018

কাফেরেরা প্রশ্ন করে: আল্লাহ্‌কে কে সৃষ্টি করেছে

আলহামদুলিল্লাহ।
১। কাফেরদের পক্ষ থেকে আপনার দিকে ছুড়ে দেয়া এ প্রশ্নটি মূলতই বাতিল এবং এটি স্ববিরোধী:
কারণ আমরা যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে, আল্লাহকে কোন এক সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছে। তখন প্রশ্নকারী বলবে: সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে??! এরপর বলবে: সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে? এভাবে এ প্রশ্নের ধারা অন্তহীনভাবে চলতে থাকবে। বিবেকের কাছে এটি অগ্রাহ্য।
পক্ষান্তরে, সকল সৃষ্টিকে একজন স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে কেউ সৃষ্টি করেনি। বরং তিনি নিজেকে ব্যতীত বাকী সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন— এটাই বিবেক ও যুক্তি গ্রাহ্য। আর সেই স্রষ্টা হচ্ছেন- আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা।
২। শরিয়ত ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এ প্রশ্নের ব্যাপারে জানিয়েছেন যে, কোত্থেকে এ প্রশ্নের সূত্রপাত, কিভাবে এ প্রশ্নের সমাধান দিতে হবে:
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষ প্রশ্ন করতেই থাকবে, করতেই থাকবে। এক পর্যায়ে বলবে: এ সৃষ্টিগুলোকে তো আল্লাহ্‌ সৃষ্টি করেছেন। তাহলে আল্লাহ্‌কে কে সৃষ্টি করেছে? যে ব্যক্তি এমন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে সে যেন বলে, আমি আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনলাম।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বলে, কে আসমান সৃষ্টি করেছে? কে জমিন সৃষ্টি করেছে? সে যেন বলে: আল্লাহ্‌। এরপর পূর্বের হাদিসের ন্যায় (আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনলাম) উল্লেখ করেছেন। সে বর্ণনাতে, رسله (রাসূলগণ) কথাটি অতিরিক্ত আছে। (অর্থাৎ আমানতু বিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি। অর্থ- আমি আল্লাহ্‌র প্রতি ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম)
রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বলে: এটা এটা কে সৃষ্টি করেছে? এক পর্যায়ে বলে: তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যদি কারো প্রশ্ন এ পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন সে যেন আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং এ প্রসঙ্গ বাদ দেয়।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বান্দার কাছে শয়তান এসে বলে: এটা এটা কে সৃষ্টি করেছে?....”[উল্লেখিত সবগুলো হাদিস ইমাম মুসলিম সংকলন (১৩৪) করেছেন]
তাই এ হাদিসগুলো থেকে জানা গেল:
এ প্রশ্নের উৎস শয়তান থেকে।
এ প্রশ্নের সমাধান হচ্ছে:
ক. শয়তানের এ প্ররোচনার পিছনে না ছুটা।
খ. এ কথা বলা যে: ‘আমি আল্লাহ্‌র প্রতি ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম’।
গ. শয়তান থেকে আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
এ প্রসঙ্গে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, বামদিকে তিনবার থুথু ফেলা ও সূরা ‘ক্বুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়া।[দেখুন: এ ওয়েবসাইটের গ্রন্থসম্ভারে ‘শাকাওয়া ওয়া হুলুল’ নামক গ্রন্থটি দেখুন]
৩। পক্ষান্তরে, আল্লাহ্‌ যে, প্রথম থেকে আছেন সে প্রসঙ্গে আমাদের কাছে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী রয়েছে। যেমন:
ক. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “হে আল্লাহ্‌ আপনিই প্রথম; আপনার আগে কিছু নেই। আপনিই শেষ; আপনার পরে কিছু নেই।”[সহিহ মুসলিম (২৭১৩)]
খ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: “আল্লাহ্‌ ছিলেন; তখন আল্লাহ্‌ ব্যতিত আর কিছু ছিল না।” অন্য বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ্‌র পূর্বে কিছু ছিল না”[হাদিসদ্বয় ইমাম বুখারী সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। ৩০২০ ও ৬৯৮২ নং হাদিস]
এ ছাড়াও আল্লাহ্‌র কিতাবে এ প্রসঙ্গে অসংখ্য আয়াত রয়েছে।
তাই মুমিন ঈমান রাখে; সন্দেহ পোষণ করে না। কাফের অস্বীকার করে। আর মুনাফিক সন্দেহ-সংশয় পোষণ করে।
আমরা আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে সত্য ঈমান ও একীন দান করেন; যাতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ্‌ই তাওফিকদাতা।
শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
আরও বিস্তারিত দেখুনঃ www.alocona.com or madbor.com 

Sunday, 8 January 2017

‘ইবাদতের অর্থ কী? ‘ইবাদত বলতে কি বুঝায়?

‘ইবাদাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো:- চূড়ান্ত বিনয়, আনুগত্য ও বশ্যতা। শারী‘আতের পরিভাষায়:- প্রকাশ্য কিংবা গোপনীয় যতসব কথা ও কাজ আল্লাহ তা’আলা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, সে সবের একটি সামষ্টিক নাম হলো ‘ইবাদাত। তাই যতসব কথা-বার্তা ও কাজ-কর্মকে আল্লাহ আল্লাহ্‌ তা’আলার পছন্দ করেন, যেমন:- সালাত (নামায) ক্বায়িম করা, সিয়াম (রোযা) পালন করা, ক্বোরবানী, নয্‌র-মানত প্রদান করা, সাদাক্বাহ, যাকাত প্রদান করা, আল্লাহ্‌র নিকট প্রার্থনা (দু‘আ) করা, আল্লাহ্‌কে ডাকা, আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ও আশা পোষণ করা, আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করা, আল্লাহ্‌র তাছবীহ্‌ (মহিমা), তাহ্‌মীদ (প্রশংসা), তাকবীর (মহত্ব), তাহ্‌লীল (আল্লাহ্‌র একত্ব) বর্ণনা করা, ক্বোরআনে কারীম তিলাওয়াত করা, ক্বোরআন ও ছুন্নাহ্‌তে বর্ণিত ও নির্দেশিত দু‘আ ও যিকর-আযকার করা, রাছূলের (সাঃ) প্রতি সালাত ও ছালাম পাঠ করা ইত্যাদি, এ সব প্রতিটি কাজ হলো একেকটি ‘ইবাদাত। রাছূলের (সাঃ) অনুসৃত ও প্রদর্শিত পন্থানুযায়ী একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে, তাঁরই (আল্লাহ্‌র) সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে, তাঁর (আল্লাহ্‌র) প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয় ও সর্বোচ্চ ভালোবাসা নিয়ে, তাঁর প্রতি পূর্ণ বশ্যতা ও আনুগত্য প্রদর্শন পূর্বক তাঁর (আল্লাহ্‌র) মহত্বের সম্মুখে অবনত মস্তকে চূড়ান্ত বিনয়ের সাথে ছাওয়াবের (আল্লাহ্‌র নিকট উত্তম প্রতিদান লাভের) আগ্রহ ও সুদৃঢ় আশা নিয়ে উপরোক্ত যে কোন কর্ম সম্পাদন করাকে আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত বলা হয়।

Sunday, 1 January 2017

আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা সম্পর্কে…

সর্বপ্রথমে আমাদের জানা দরকার আল্লাহ্‌ সম্পর্কে কে আল্লাহ্‌? আমরা সংক্ষেপে জানব ইনশা’আল্লাহ । আল্লাহ্‌ কে? এই প্রশ্নের জবাবে আমরা বলতে পারি; এই দুনিয়ার সৃষ্টি কর্তা-ই হলেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। সাগরে ছোট থেকে বড় মাছ পর্যন্ত প্রত্যেকের রিজিক এর ব্যাবস্থা যে করে সেই-ই হলে আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। সবচেয়ে ছোট কিট-পতঙ্গও আহার করে থাকেন, যে ঐ কিট-পতঙ্গের রিজিক এর ব্যাবস্থা করেন তিনি-ই হলেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। আমরা বলতে পারি আমি আমার খাবার যোগার এর জন্য নিজেই কাজ করি, আমার বাবা, মা ভাই বোন , আমার ছেলে-মেয়ে সকলেই আমার আয়ের উৎস থেকেই আহার করে থাকি। জবাবে আমরা বলব, মায়েরগর্ভে থাকা অবস্থা একটি শিশুকে কে আহার দেন? মায়ের গর্ভে ৯/১০ মাস একটি শিশু কি খেয়ে থাকেন? কে তাঁর খাবার বা রিজিক এর ব্যাবস্থা করেন? যে এই গর্ভের শিশুর রিজিক এর ব্যবস্থা করেন তিনি-ই হলেন আমার মালিক আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। একটি পাখি সকাল বেলা তাঁর বাসা থেকে বের হয় খালি পেটে সে জানেনা কোথায় যাবে, সন্ধ্যায় সেই পাখিটি তাঁর বাসায় ঠিকি ফিরে আসে সে যত দুরেই যাক, আর সে খালি পেটে নয় তাঁর পেট ভরেই ফিরেন, ঐ পাখির খাবারের ব্যবস্থা জিনি করেন তিনি-ই মহান আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। আমরা পূর্বের সকল নবী রসূল (সাঃ)-দের ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা, এবং ওহীর মাধ্যমে অজানা তথ্যকে জানিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে, জুলুম কারীর ধংশ করেছেন। সেই আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে আমাদেরকে অবশ্যই কুরআনুল কারীম অর্থ বুঝে পাঠ করতে হবে। আল্লাহর তা’আলার প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।

Sunday, 13 November 2016

সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?

بِسْـــــــــــــــــــــــمِ اللّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْم



 সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?

সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।

তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ

১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।

২) হরাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।

৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে সংশয় হওয়া।

প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:

মুছল্লী যদি নামাযের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করে যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন দু‘বার করে রুকূ করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ রাকাত আদায় করা। তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল করেছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ  “যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমাদের নির্দেশনা নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”

কিন্তু যদি ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই ছালাত শেষ করে দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র সাহু সিজদা করবে। তার ছালাতও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ছালাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার রাকাআত শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।

উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের ছালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এবৃদ্ধির কথা তার স্মরণ হল, তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে।

আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে সাহু করে আবার সালাম ফেরাবে।

দলীল:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ خَمْسًا فَقَالُوا أَزِيدَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا: صَلَّيْتَ خَمْسًا، فسجد سجدتين بعد ما سلم. وفي رواية: فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثم سلم

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের নামায পাঁচ রাক্‌আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি সিজদা করলেন। অন্য রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন, দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন।

সালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:

নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো ছালাতে বৃদ্ধি করার অন্তর্গত। কেননা ছালাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা মনে পড়ল তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) তবে সে অবশিষ্ট ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

দলীল:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللَّه عَنْه أّنّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِهم الظُّهْرَ أو العصر فسَلَّمَ من رَكْعَتَيْنِ فَخَرَجَ سَرَعَانُ من أبواب الْمَسْجِدِ يقولون:  قَصُرَتِ الصَّلاَةُ وَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى خَشَبَةٍ الْمَسْجِدِ فاتكأَ عَلَيْهَا كأنه غضبانَ، فقام رجل فَقَالَ يَا رسول الله:  أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتْ الصَّلاَةُ؟  فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:  لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تَقْصُرْ، فقال الرجل:  بَلي نَسِيتَ فقال النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ للصحابة: أَحقٌّ ما يقول؟ قَالُوا: نعم،  فتقدم النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى ما بقي من صلاته، ثم سلم ثم سجد سجدتين ثم سلم

আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিয়ে যোহর অথবা আছরের ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাআত আদায় করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন। কিছু লোক দ্রুত মসিজদ থেকে একথা বলতে বলতে বের হয়ে গেল যে, ছালাত সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। নবীজিও (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের এক খুঁটির কাছে গিয়ে তাতে হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। মনে হচ্ছিল তিনি যেন রাগন্বিত। জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তো ভুলিনি, আর নামাযও সংক্ষিপ্ত করা হয়নি। লোকটি বলল, বরং আপনি ভুলেই গিয়েছেন। (কারণ আপনি দু‘রাকাআত ছালাত আদায় করেছেন।) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, একি সত্য বলছে? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং অবশিষ্ট দু‘রাকাআত আদায় করে তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরলেন। তারপর দু‘টি সিজদা করলেন অতঃপর সালাম ফেরালেন।

দ্বিতীয়ত: ছালাতে হরাস হওয়া:

ক) রুকন হরাস হওয়া:

মুছল্লী যদি কোন রুকন কম করে ফেলে- উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা (নামায শুরু করার তাকবীর) হয়, তবে তার ছালাতই হবে না। চাই উহা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিক বা ভুলক্রমে ছেড়ে দিক। কেননা তার ছালাতই তো শুরু হয়নি।

আর উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য কিছু হয় আর তা ইচ্ছাকৃত হয় তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে কোন রুকন ছুটে যায়- যেমন প্রথম রাকাআতে কোন রুকন ছুটে গেল, এখন যদি দ্বিতীয় রাকাআতে সেই ছুটে যাওয়া রুকনের নিকট পৌঁছে যায়- তবে এঅবস্থায় আগের রাকাআত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাআত গণ্য করবে এবং বাকী অংশ পূরা করে সাহু সিজদা দিবে।

কিন্তু যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ছুটে যাওয়া সেই রুকনে না পৌঁছে, তবে ছুটে যাওয়া রুকনটি আগে আদায় করবে তারপর বাকী অংশগুলো আদায় করবে এবং সাহু সিজদা দিবে।

উদাহরণ: জনৈক মুছল্লী প্রথম রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদাটি ভুলে গেল। যখন সেকথা স্মরণ হল, তখন সে দ্বিতীয় রাকাআতের দু‘সিজদার মধ্যবর্তি স্থানে বসেছে। এঅবস্থায় আগের রাকাতটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাত গণ্য করে অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে ছালাত শেষে সাহু সিজদা করবে।



আর একটি উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি প্রথম রাকাআতে একটি মাত্র সিজদা করেছে। তারপর দ্বিতীয় সিজদা না করেই দাঁড়িয়ে পড়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে রুকূ করার পর সেই ভুলের কথা স্মরণ হয়েছে, তবে সে বসে পড়বে এবং সেই ছুটে যাওয়া সিজদা দিবে এবং সেখান থেকে ছালাতের বাকী অংশ পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

খ) কোন ওয়াজিব হরাস হওয়া:

মুছল্লী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তবে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয় আর উক্ত স্থান ছেড়ে যাওয়ার আগেই যদি স্মরণ হয়ে যায় তবে তা আদায় করবে এতে কোন দোষ নেই- সাহু সিজদা দিতে হবে না। কিন্তু যদি উক্ত ওয়াজিব ছেড়ে পরবর্তী রুকন শুরু করার আগেই স্মরণ হয়ে যায় তবে ফিরে গিয়ে সেই ওয়াজিব আদায় করবে এবং শেষে সাহু সিজদা করবে। কিন্তু পরবর্তী রুকন শুরু করার পর যদি স্মরণ হয় তবে উক্ত ছুটে যাওয়া ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে। অবশিষ্ট ছালাত আদায় করে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করলেই ছালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।

উদাহরণ: একজন মুছল্লী দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে না বসে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে যাচ্ছে। এমন সময় স্মরণ হল নিজ ভুলের কথা। তখন সে বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে ছালাত পূর্ণ করবে। কোন সাহু সিজদা লাগবে না।

আর যদি কিছুটা দাঁড়ায় কিন্তু পরিপূর্ণরূপে দাঁড়ায়নি তবে সে বসে যাবে এবং তাশাহুদ পড়বে ও ছালাত শেষে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে পড়ে তবে আর বসবে না। তাশাহুদ রহিত হযে যাবে। ঐভাবেই ছালাত পূর্ণ করবে এবং সলাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।

দলীল:

عَنْ عَبْدِاللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ انْتَظَرَ النَّاسُ تَسْلِيمَهُ فَكَبَّرَ وَسَجَدَ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَسَلَّمَ

আবদুল্লাহ্‌ বিন বুহাইনাহ্‌ (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে (যোহর) ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাত শেষে (তাশাহুদ না পড়েই) দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি নামায চালিয়ে যেতে থাকলেন। ছালাত শেষে মানুষ সালামের অপেক্ষা করছে এমন সময় সালামের পূর্বে তিনি তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, মাথা উঠিয়ে আবার তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, তারপর মাথা উঠিয়ে সালাম ফেরালেন।

তৃতীয়ত: সন্দেহ হওয়া: ছালাতের মধ্যে সন্দেহের দু‘টি অবস্থা: প্রথম অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি বিষয়ের মধ্যে যেটির প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী কাজ করবে এবং ছালাত পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

উদাহরণ: একজন লোক যোহরের ছালাত আদায় করছে। কিন্তু সন্দেহ হল এখন সে কি দ্বিতীয় রাকাতে না তৃতীয় রাকাতে? এ সময় সে অনুমান করে স্থির করবে কোনটা ঠিক। যদি অনুমান প্রাধান্য পায় যে এটা তৃতীয় রাকাত, তবে তা তৃতীয় রাকাত গণ্য করে ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা করবে।

দলীল: আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُسَلِّمْ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ

“তোমাদের কারো ছালাতে যদি সন্দেহ হয় তবে সঠিক সিদ্ধানে- উপনীত হওয়ার চেষ্টা করবে এবং সে ভিত্তিতে ছালাত পূর্ণ করবে। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু‘টি সাহু সিজদা করবে।”

দ্বিতীয় অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি দিকের কোনটাই প্রাধান্য পায় না। এ অবস্থায় নিশ্চিত দিকটির উপর ভিত্তি করবে। অর্থাৎ কম সংখ্যাটি নির্ধারণ করে বাকী নামায পূর্ণ করবে। তারপর সালামের আগে সাহু সিজদা করে শেষে সালাম ফিরাবে।

উদাহরণঃ জনৈক ব্যক্তি আছরের ছালাতে সন্দেহ করল- তিন রাকাত পড়েছে না দু‘রাকাত। কিন্তু অনুমান করে কোনটাই তার নিকট প্রাধান্য পেল না। এমতাবস্থায় সে তা দ্বিতীয় রাকাত ধরে প্রথম তাশাহুদ পাঠ করবে। তারপর বাকী দু‘রাকাত নামায পূর্ণ করবে এবং শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে। দলীল: আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلاثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَطْرَحِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ فَإِنْ كَانَ صَلَّى خَمْسًا شَفَعْنَ لَهُ صَلَاتَهُ وَإِنْ كَانَ صَلَّى إِتْمَامًا لِأَرْبَعٍ كَانَتَا تَرْغِيمًا لِلشَّيْطَانِ

“তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি ছালাতে সন্দেহ করে যে, তিন রাকাত পড়েছে না চার রাকাত? তবে সে সন্দেহকে বর্জন করবে এবং নিশ্চিতের উপর ভিত্তি করবে। তারপর সালাম ফেরানোর পূর্বে দু‘টি সিজদা করবে। যদি পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে তবে ছালাত বেজোড় থেকে জোড় হয়ে যাবে। আর যদি চার রাকাতই পড়ে থাকে, তবে এসিজদা দু‘টি শয়তানকে অপমানের জন্য হবে।”

সারকথা: পূর্বেল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, সিজদায়ে সাহু কখনো সালামের আগে কখনো সালামের পর করতে হয়।

সালামের পূর্বে সাহু সিজদা দু‘ক্ষেত্রে করতে হয়:

প্রথম: ছালাতে যদি কোন ওয়াজিব হরাস হয়। দ্বিতীয়: ছালাতে যদি সন্দেহ হয় এবং দু‘টি দিকের কোনটিই প্রাধান্য না পায়, তবে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবে।

সালামের পর দু‘ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হয়:

প্রথম: যদি ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে যায়।

দ্বিতীয়: যদি সন্দেহ হয় এবং যে কোন একটি দিক অনুমানের ভিত্তিতে প্রাধান্য লাভ করে, তবে সালামের পর সাহু সিজদা করবে।



ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, অধ্যায়ঃ সালাত, অনুচ্ছেদঃ (২৭১) সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?


 

Wednesday, 7 September 2016

চার বিবাব করার ব্যাখ্যা

‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার ‘আয়িশাহ (রাযি.)-কে আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পার’’- (আন-নিসাঃ ৩)। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আমার ভাগিনা! এ হচ্ছে সেই ইয়াতীম মেয়ের কথা, যে অভিভাবকের আশ্রয়ে থাকে এবং তার সম্পদে অংশীদার হয়। এদিকে মেয়ের ধন-রূপে মুগ্ধ হয়ে তার অভিভাবক মোহরানার ব্যাপারে সুবিচার না করে অর্থাৎ, অন্য কেউ যে পরিমাণ মোহরানা দিতে রাজী হত, তা না দিয়েই তাকে বিয়ে করতে চাইত। তাই প্রাপ্য মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে সুবিচার না করা পর্যন্ত তাদেরকে আশ্রিতা ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পছন্দমত অন্য মহিলাদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেছেন, পরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট (মহিলাদের সম্পর্কে) ফাতওয়া জিজ্ঞেস করলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করেন- ‘‘তারা আপনার নিকট মহিলাদের সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করে, আপনি বলুন, আল্লাহই তাদের সম্পর্কে তোমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে কিতাব হতে তোমাদেরকে পাঠ করে শোনানো হয়, তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ রয়েছে, তা তোমরা তাদের দাও না অথচ তাদের তোমরা বিয়ে করতে চাও’’- (আন-নিসা : ১২৭)। يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ  বলে আল্লাহ তা‘আলা পূর্বোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; যেখানে বলা হয়েছে-

{وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ}

‘‘আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে অন্য নারীদের মধ্যে হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজন বিয়ে করতে পারবে’’। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার ইরশাদ এর মর্ম হল, ‘‘ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ’’। তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সঙ্গত মোহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে। (২৭৬৩, ৪৫৭৩, ৪৫৭৪, ৪৬০০, ৫০৬৪, ৫০৯২, ৫০৯৮, ৫১২৮, ৫১৩১, ৫১৪০, ৬৯২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ  ২৩৩২)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

জিহাদ

জিহাদ ও গাযওয়ার ক্ষেত্রে নাবী (সাঃ) এর হিদায়াত

জিহাদ যেহেতু ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া এবং জান্নাতে যেহেতু রয়েছে মুজাহিদদের সর্বোত্তম মর্যাদা ও দুনিয়াতে রয়েছে তাদের জন্য সর্বোচ্চ আসন তাই রসূল (সাঃ) ছিলেন এ বিষয়ে সর্বাধিক সফল। তিনি সকল প্রকার জিহাদেই উত্তমভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আল্লাহর রাস্তায় অন্তর, জবান, দাওয়াত, বর্ণনা, তলোয়ার ও বর্শা দিয়ে যথাযথ জিহাদ করেছেন। মূলতঃ তিনি তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত জিহাদে কাটিয়েছেন। এ জন্যই তাঁর জন্য রয়েছে আল্লাহর দরবারে জগতবাসীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা।

আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে রিসালাত দান করার সাথে সাথেই জিহাদের হুকুম দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-

  فَلاَ تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُم بِهِ جِهَاداً كَبِيراً

‘‘অতএব তুমি কাফেরদের আনুগত্য করবেনা এবং তাদের সাথে এর সাহায্যে কঠোর সংগ্রাম কর। (ফুরকান-২৫:৫২) এটি হচ্ছে মক্কী সূরা। এখানে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রসূলকে দ্বীনের দাওয়াত প্রচারের মাধ্যমে জিহাদ করার আদেশ দিয়েছেন। এমনিভাবে মুনাফিকদের সাথে দলীল-প্রমাণ পেশ করার মাধ্যমে জিহাদ করতে হবে। কাফেরদের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে জিহাদ করার চেয়েও এই প্রকারের জিহাদ অধিক কঠিন। এটি হচ্ছে জগতের বিশেষ ব্যক্তিত্ব এবং তাদের সহযোগীদের জিহাদ। এই শ্রেণীর লোকদের সংখ্যা কম হলেও আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা অপরিসীম।



  বিরোধীদের সামনে বিশেষ করে প্রভাবশালী জালেমের সামনে সত্য কথা বলা যেহেতু সর্বোত্তম জিহাদের অন্তর্ভুক্ত তাই নাবী-রসূলদের জন্য রয়েছে এই প্রকার জিহাদের যথেষ্ট অংশ। আর নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ছিলেন এ বিষয়ে সর্বোচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ স্থানের অধিকারী। আল্লাহর প্রকাশ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা আভ্যন্তরীণ শত্রু তথা নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের একটি শাখা। রসূল (সাঃ) বলেন-

المجاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فى طَاعَةِ الله والمُهاجِرُ مَنْ هَجَرَ ما نَهَى الله عنه

‘‘প্রকৃত মুজাহিদ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে, আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজে নফসের সাথে জিহাদ করে। আর আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে যে ব্যক্তি বিরত থাকে সেই প্রকৃত মুহাজির’’।[1] সুতরাং নফসের সাথে জিহাদ করাকে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করার উপর প্রাধান্য দিতে হবে। এই দু’টি (নফস ও কাফের) হচ্ছে বনী আদমের শত্রু। আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দাকে এই দু’টি শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ দিয়েছেন। এই দুই শত্রুর মাঝখানে তৃতীয় একটি শত্রু রয়েছে। এর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ব্যতীত নফস ও কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ করা সম্ভব নয়। এই তৃতীয় শত্রু হচ্ছে শয়তান। সে নফস ও শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের সময় বান্দার সামনে চলে আসে এবং বান্দাকে জিহাদ থেকে ফিরিয়ে রাখে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-

إنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌ فاتَّخِذُوهُ عَدُوّاً إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ

‘‘শয়তান তোমাদের শত্রু অতএব তাকে শত্রু রুপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়’’। (সূরা ফাতির-৩৫:৬)

শয়তানকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ করার আদেশ দেয়ার মধ্যে তার বিরুদ্ধে জিহাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। সুতরাং এই তিনটি শত্রুর বিরুদ্ধে বান্দাকে জিহাদ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। (১) নফসের বিরুদ্ধে, (২) শয়তানের বিরুদ্ধে ও (৩) কাফেরদের বিরুদ্ধে। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য একটি পরীক্ষা। বান্দাকে এগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ করার শক্তি ও সামর্থ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা শত্রুকেও শক্তি ও সামর্থ দিয়েছেন। এক দলকে অন্য দল দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং কাউকে দিয়ে অন্য কাউকে ফিতনায় ফেলেন। এর মাধ্যমে তিনি যাচাই করতে চান কে আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে আর কে শয়তানকে বন্ধু বানায়। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ المُجَاهِدِينَ مِنُكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَاْ أَخْبَارَكُمْ

‘‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না জানতে পারি তোমাদের জিহাদকারীদেরকে এবং সবরকারীদেরকে এবং যতক্ষণ না আমি তোমাদের অবস্থানসমূহ যাচাই করি’’। (সূরা মুহাম্মাদ-৪৭: ৩১) সুতরাং তিনি তাঁর বান্দাদেরকে চক্ষু, কর্ণ, বিবেক ও শক্তি দিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য কিতাব নাযিল করেছেন, নাবী-রসূল পাঠিয়েছেন এবং ফিরিস্তাদের মাধ্যমে তাদেরকে সাহায্য করেছেন। তিনি তাদেরকে এমন বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন, যা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাদেরকে সর্বাধিক শক্তি যোগাবে। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা যদি আল্লাহর আনুগত্য করে তাহলে তারা তাদের শত্রুদের উপর পৃথিবীতে সদা বিজয়ী থাকবে। আর যদি তারা আল্লাহর আনুগত্য বর্জন করে এবং পাপ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তিনি শত্রুদেরকে তাদের উপর শক্তিশালী করে দিবেন। আর শত্রুদেরকে তাদের উপর শক্তিশালী করলেও তিনি তাদেরকে সে অবস্থায় রেখে দিবেন না; বরং তারা যদি আবার সঠিক পথে ফিরে আসে, ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে নেয় এবং ধৈর্যের মাধ্যমে তারা যদি শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করে তাহলে তিনি তাদেরকে সাহায্য করবেন এবং বিজয় দান করবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুত্তাকী, সৎকর্মশীল, ধৈর্যশীল এবং মুমিনদের সাথে আছেন। তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে এমন সময় রক্ষা করেন যখন তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে অক্ষম হয়ে যায়। আল্লাহর এই সাহায্যের ফলেই তারা শত্রুদের উপর বিজয় লাভ করে থাকে। অন্যথায় শত্রুরা তাদের মূলোৎপাটন করে ফেলত।

ঈমান অনুযায়ীই আল্লাহর সাহায্য আসে। ঈমান যদি মজবুত হয়, তাহলে আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতাও হবে মজবুত। এর মাধ্যমে কোন কল্যাণ (বিজয়) আসলে মুমিনদের উচিৎ আল্লাহর প্রশংসা করা। আর যদি অন্য কিছু হয় তাহলে সে যেন শুধু নিজেকেই দোষারোপ করে।

আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর পথে জিহাদের হক আদায় করার আদেশ দিয়েছেন এবং তিনি তাদেরকে যথাযোগ্য আল্লাহর ভয় অর্জন করার আদেশ দিয়েছেন। তখনই যথাযোগ্য আল্লাহর ভয় অর্জন করা সম্ভব হবে যখন তাঁর আনুগত্য করা হবে; তার নাফরমানী করা হবে না, তাঁর স্মরণ করা হবে; তাঁকে ভুলা হবেনা এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে; তাঁর নেয়ামতের কুফরী করা হবে না। তাঁর পথে জিহাদের হক তখনই আদায় করা হবে, যখন বান্দা তার নফসের সাথে জিহাদ করে সফল হবে, যাতে তার অন্তর, জবান এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর অনুগত হয়ে যায় (তার সবকিছুই আল্লাহর হয়ে যায়) নিজের নফসের আয়ত্তে কিছুই থাকেনা। আল্লাহর পথে যথাযোগ্য জিহাদ তখনই করা সম্ভব হবে, যখন বান্দা তার বিরুদ্ধে নিয়োজিত শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ করে সফল হতে পারবে, শয়তানের ওয়াদাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে পারবে এবং তার আদেশ অমান্য করতে পারবে। কেননা সে মিথ্যা ওয়াদা করে, মিথ্যা আশ্বাস দেয়, অন্যায় কাজের আদেশ দেয়, হিদায়াত এবং ঈমানের পথ হতে বিরত রাখে।



বান্দা যখন নফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ করে জয়লাভ করবে তখন তার মাঝে এমন শক্তি তৈরী হবে, যার মাধ্যমে সে কালেমায়ে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’কে সমুন্নত করার জন্য আল্লাহর পথে এবং আল্লাহর প্রকাশ্য দুশমনদের বিরুদ্ধে অন্তর, জবান, জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করতে সক্ষম হবে।

পূর্ব যামানার বিদ্বানগণ জিহাদের সংজ্ঞায় বিভিন্ন কথা বলেছেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রাঃ)     বলেন- জিহাদ হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় পরিপূর্ণ শক্তি ব্যয় করা এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন সমালোচনাকারীর সমালোচনায় ভয় না করা। আব্দুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেন- জিহাদ হচ্ছে নফস ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

‘‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্কে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনি ভয় করতে থাক এবং অবশ্যই মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করোনা’’। (সূরা আল-ইমরান-৩:১০২) তিনি আরও বলেন-

وَجَاهِدُوا فِي اللهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ

‘‘এবং তোমরা আল্লাহর রাস্তায় যথার্থ জিহাদ কর। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেন নি’’। (সূরা হাজ্জ-২২:৭৮) যারা বলে- এই দু’টি আয়াত রহিত হয়ে গেছে, কারণ এখানে যথাযোগ্য ভয় করতে এবং যথার্থ রূপে জিহাদ করতে বলা হয়েছে, আর বান্দারা দুর্বল হওয়ার কারণে তা করতে অক্ষম, তাদের কথা সঠিক নয়। কেননা বান্দাদের সকলের অবস্থা এক নয়। যে ব্যক্তি যথার্থরূপে জিহাদ করার ক্ষমতা রাখে সে পরিপূর্ণভাবেই জিহাদ করবে আর যে ব্যক্তি সেই ক্ষমতা রাখেনা তার ব্যাপারে কথা হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলা কারও উপর সাধ্যাতীত কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। আমরা যদি দ্বিতীয় আয়াতটির শেষাংশের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই আল্লাহ্ তা‘আলা সেখানে বলেছেন-

هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ

‘‘তিনি তোমাদেরকে বাছাই করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি’’।

আল্লাহ্ দ্বীনকে প্রশস্ত রেখেছেন। সকলের জন্যই দ্বীন পালন করা সহজ। প্রত্যেক জীবের রিযিক প্রশস্ত করেছেন। বান্দা যা করতে পারবে তিনি তাই ফরয করেছেন। বান্দার জন্য যে পরিমাণ রিযিক যথেষ্ট তিনি তাই দিয়েছেন। বান্দার দ্বীন প্রশস্ত এবং তার রিযিকও প্রশস্ত। সুতরাং কোনভাবেই তিনি তাঁর বান্দার উপর দ্বীনের ব্যাপারে সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেন নি। নাবী (সাঃ) বলেন- আমি পবিত্র ও সহজ দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছি। তাওহীদের মাধ্যমে দ্বীনকে পবিত্র করা হয়েছে আর দ্বীনের হুকুম-আহকাম ও আমলসমূহকে সহজ করা হয়েছে।



সুতরাং আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের উপর খুব সহজ করেছেন। তিনি তাঁর দ্বীনকে, জীবিকাকে, তাঁর ক্ষমা ও মাগফিরাতকেও প্রশস্ত করেছেন। যতদিন দেহের মধ্যে রূহ বিদ্যমান থাকবে ততদিন তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন, প্রতিটি গুনাহর কাফফারার ব্যবস্থা করেছেন। তাওবা, সাদকাহ ও সৎকাজ গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। বিপদাপদও গুনাহ্-এর কাফ্ফারা স্বরূপ। আল্লাহ্ যা হারাম করেছেন, তার বিনিময়ে তিনি এমন হালাল বস্ত্ত দান করেছেন যা তাদের জন্য উপকারী, পবিত্র ও সুস্বাদু। সুতরাং এগুলোকে তিনি হারামের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। বান্দা এগুলোর মাধ্যমে হারাম থেকে বাঁচতে পারবে। সুতরাং হালালই তার জন্য যথেষ্ট। তিনি তাঁর বান্দার উপর সংকীর্ণ করেন নি। যে সমস্ত কঠিন বিষয়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদেরকে পরীক্ষা করেন তার প্রত্যেকটির পূর্বেও রয়েছে অতি সহজ বিষয় এবং তার পরেও রয়েছে সহজ বস্ত্ত। সুতরাং দু’টি সহজ বিষয়ের উপর একটি কঠিন বিষয় কখনই জয়লাভ করতে পারেনা। সুতরাং আল্লাহ্ তা‘আলা যেখানে তাঁর বান্দার উপর সাধ্যাতীত কোন দায়িত্ব দেন না, সেখানে বান্দা যে সমস্ত কাজ করার ক্ষমতা একেবারেই রাখে না তা তিনি কিভাবে তার উপর চাপিয়ে দিবেন?

[1]. মুসনাদে আহমাদ। ইমাম আলবানী রহঃ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সিলসিলায়ে সহীহা হা/৫৪৯।