Sunday, 8 January 2017

‘ইবাদতের অর্থ কী? ‘ইবাদত বলতে কি বুঝায়?

‘ইবাদাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো:- চূড়ান্ত বিনয়, আনুগত্য ও বশ্যতা। শারী‘আতের পরিভাষায়:- প্রকাশ্য কিংবা গোপনীয় যতসব কথা ও কাজ আল্লাহ তা’আলা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, সে সবের একটি সামষ্টিক নাম হলো ‘ইবাদাত। তাই যতসব কথা-বার্তা ও কাজ-কর্মকে আল্লাহ আল্লাহ্‌ তা’আলার পছন্দ করেন, যেমন:- সালাত (নামায) ক্বায়িম করা, সিয়াম (রোযা) পালন করা, ক্বোরবানী, নয্‌র-মানত প্রদান করা, সাদাক্বাহ, যাকাত প্রদান করা, আল্লাহ্‌র নিকট প্রার্থনা (দু‘আ) করা, আল্লাহ্‌কে ডাকা, আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ও আশা পোষণ করা, আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করা, আল্লাহ্‌র তাছবীহ্‌ (মহিমা), তাহ্‌মীদ (প্রশংসা), তাকবীর (মহত্ব), তাহ্‌লীল (আল্লাহ্‌র একত্ব) বর্ণনা করা, ক্বোরআনে কারীম তিলাওয়াত করা, ক্বোরআন ও ছুন্নাহ্‌তে বর্ণিত ও নির্দেশিত দু‘আ ও যিকর-আযকার করা, রাছূলের (সাঃ) প্রতি সালাত ও ছালাম পাঠ করা ইত্যাদি, এ সব প্রতিটি কাজ হলো একেকটি ‘ইবাদাত। রাছূলের (সাঃ) অনুসৃত ও প্রদর্শিত পন্থানুযায়ী একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে, তাঁরই (আল্লাহ্‌র) সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে, তাঁর (আল্লাহ্‌র) প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয় ও সর্বোচ্চ ভালোবাসা নিয়ে, তাঁর প্রতি পূর্ণ বশ্যতা ও আনুগত্য প্রদর্শন পূর্বক তাঁর (আল্লাহ্‌র) মহত্বের সম্মুখে অবনত মস্তকে চূড়ান্ত বিনয়ের সাথে ছাওয়াবের (আল্লাহ্‌র নিকট উত্তম প্রতিদান লাভের) আগ্রহ ও সুদৃঢ় আশা নিয়ে উপরোক্ত যে কোন কর্ম সম্পাদন করাকে আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত বলা হয়।

Sunday, 1 January 2017

আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা সম্পর্কে…

সর্বপ্রথমে আমাদের জানা দরকার আল্লাহ্‌ সম্পর্কে কে আল্লাহ্‌? আমরা সংক্ষেপে জানব ইনশা’আল্লাহ । আল্লাহ্‌ কে? এই প্রশ্নের জবাবে আমরা বলতে পারি; এই দুনিয়ার সৃষ্টি কর্তা-ই হলেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। সাগরে ছোট থেকে বড় মাছ পর্যন্ত প্রত্যেকের রিজিক এর ব্যাবস্থা যে করে সেই-ই হলে আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। সবচেয়ে ছোট কিট-পতঙ্গও আহার করে থাকেন, যে ঐ কিট-পতঙ্গের রিজিক এর ব্যাবস্থা করেন তিনি-ই হলেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। আমরা বলতে পারি আমি আমার খাবার যোগার এর জন্য নিজেই কাজ করি, আমার বাবা, মা ভাই বোন , আমার ছেলে-মেয়ে সকলেই আমার আয়ের উৎস থেকেই আহার করে থাকি। জবাবে আমরা বলব, মায়েরগর্ভে থাকা অবস্থা একটি শিশুকে কে আহার দেন? মায়ের গর্ভে ৯/১০ মাস একটি শিশু কি খেয়ে থাকেন? কে তাঁর খাবার বা রিজিক এর ব্যাবস্থা করেন? যে এই গর্ভের শিশুর রিজিক এর ব্যবস্থা করেন তিনি-ই হলেন আমার মালিক আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। একটি পাখি সকাল বেলা তাঁর বাসা থেকে বের হয় খালি পেটে সে জানেনা কোথায় যাবে, সন্ধ্যায় সেই পাখিটি তাঁর বাসায় ঠিকি ফিরে আসে সে যত দুরেই যাক, আর সে খালি পেটে নয় তাঁর পেট ভরেই ফিরেন, ঐ পাখির খাবারের ব্যবস্থা জিনি করেন তিনি-ই মহান আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা। আমরা পূর্বের সকল নবী রসূল (সাঃ)-দের ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা, এবং ওহীর মাধ্যমে অজানা তথ্যকে জানিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে, জুলুম কারীর ধংশ করেছেন। সেই আল্লাহ্‌ সুবহানা তা’আলা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে আমাদেরকে অবশ্যই কুরআনুল কারীম অর্থ বুঝে পাঠ করতে হবে। আল্লাহর তা’আলার প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।